Breaking News
Home | সারাদেশ | মশা বেশি মন্ত্রীপাড়ায়!

মশা বেশি মন্ত্রীপাড়ায়!

রাজধানীর মিন্টো রোড ও বেইলি রোডের মতো এলাকায় মশার উপস্থিতি অন্য এলাকার চেয়ে বেশি বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি জরিপে উঠে এসেছে।

তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন এই এলাকায় মশা বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গাছপালা বেশি থাকায় মিন্টো রোড এবং বেইলি রোডে লার্ভার উপস্থিতি বেশি থাকতে পারে।

“রমনা পার্কসহ ওই এলাকায় গাছপালা বেশি। এজন্য মশা বেশি থাকতে পারে। আমরা গতবার যখন জরিপ করেছিলাম, তখনও সেখানে মশার উপস্থিতি বেশিই পাওয়া গিয়েছিল।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা দুই সিটি করপোরেশনের ৯৩টি ওয়ার্ডের ১০০টি জায়গায় গত জানুয়ারি মাসে জরিপ চালায়। এরমধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৯টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪১টি জায়গায় জরিপ হয়।

জরিপ শেষে ১৯টি এলাকাকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তারে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতে এডিস মশার বেশি লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে মিন্টো রোড এবং বেইলি রোডে।

মিন্টো রোড এবং বেইলি রোডের জরিপে ৪০ শতাংশ প্রজনন উৎসে লার্ভার উপস্থিতি এবং ৪০ শতাংশ বাড়ি এডিস মশায় আক্রান্ত বলে জানাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপ।

মন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আবাসস্থল মিন্টো রোডসহ এলাকাটি ‘মন্ত্রীপাড়া’ নামেই পরিচিত মন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আবাসস্থল মিন্টো রোডসহ এলাকাটি ‘মন্ত্রীপাড়া’ নামেই পরিচিত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মশার প্রজনন উৎস এবং বাড়ি হিসাব করে এ জরিপ চালানো হয়েছে। প্রতি একশটি প্রজনন উৎসের মধ্যে ২০টি বা তার বেশিতে যদি মশার লার্ভা বা পিউপা পাওয়া যায় তাহলে সেটাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ উপস্থিতি’ বলা যায়। আবার একশ’ বাড়ির মধ্যে পাঁচ বা পাঁচের অধিক বাড়িতে লার্ভা বা পিউপা পাওয়া গেলে সেটাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলছেন তারা।

জরিপে পানি ট্যাংক, প্লাস্টিকের ড্রাম, বালতি, স্যাঁতস্যাতে মেঝে, পরিত্যক্ত টায়ার, পানির মিটার, মাটির এবং সিমেন্টের পাত্রসহ পানি জমে থাকে এমন জায়গা পরীক্ষা করা হয়।

মিন্টো রোড ও বেইলি রোড ছাড়াও ঢাকা দক্ষিণে শান্তিনগর, ধানমণ্ডি-১, এলিফ্যান্ট রোড, গুলবাগ, কলাবাগান, মেরাদিয়ার এলাকায় এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে।

উত্তর সিটি করপোরেশনের বনানী, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, গাবতলী, মগবাজার, মালিবাগের একাংশ, মিরপুর-১, মহাখালী ডিওএইচএস, নাখালপাড়া, পূর্ব শেওড়াপাড়া, টোলারবাগ ও উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কের পাশের খালে জন্মাচ্ছে মশা পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কের পাশের খালে জন্মাচ্ছে মশা
জরিপ বলছে, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ৩০ ভাগ, মালিবাগে ৪০ ভাগ, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে ৩৫ এবং নাখালপাড়ায় ২৫ ভাগ প্রজনন উৎসে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ৩০, মালিবাগে ২৫, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে ৩৫, নাখালপাড়ায় ২৫ ভাগ বাড়ি এডিস মশায় ভরা।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার শান্তিনগরে ২৫, গুলবাগে ২৫, এলিফ্যান্ট রোডে ৩০ শতাংশ প্রজনন উৎসে লার্ভা পাওয়া গেছে। বাড়ি হিসেবে শান্তিনগরে ২৫, গুলবাগে ১৫, এলিফ্যান্ট রোডে ২৫ শতাংশ এডিস মশা আক্রান্ত।

মশার এই উপস্থিতি জুন-জুলাইয়ের চেয়ে কম হলেও এই সময়ে তা অস্বাভাবিক বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

অধ্যাপক তাহমিনা বলেন, “জুন-জুলাইয়ে যে মশা থাকে এখন তার চেয়ে অনেক কম। তারপরও কিছু কিছু জায়গায় মশা বেশি আছে। শুকনো মৌসুমে এডিস মশার বিস্তার কম থাকে। এজন্য আমরা সতর্কতামূলক বিষয় হিসেবে এটা বলেছি যে এটা সামনে আরও বাড়তে পারে।”

এবার চিকুনগুনিয়া ছড়ানোর আশঙ্কা না করলেও ডেঙ্গুর বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।

“গতবছর যেহেতু চিকুনগুনিয়া হয়ে গেছে এজন্য এবার হবে না বলে মনে করছি। সাধারণত একবার চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা গেলে পরের পাঁচ-ছয় বছর তা আর তেমন হয় না। তবে ডেঙ্গুর ভয় সব সময়ই আছে। সেজন্য আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

পরিবেশ পরিবর্তনের কারণে মশার উপদ্রব বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অধ্যাপক তাহমিনা।

“ক্লাইমেট চেঞ্জ হচ্ছে এতে তো কোনো সন্দেহ নাই। এখানে পরিবেশেরও কিছুটা ভূমিকা থাকতে পারে।”

গত বুধবার শাহবাগে মশা নিধন কার্যক্রমে মেয়র সাঈদ খোকন গত বুধবার শাহবাগে মশা নিধন কার্যক্রমে মেয়র সাঈদ খোকন
এ বিষয়ে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (ম্যালেরিয়ার অ্যান্ড এডিস ট্রান্সমিটেড ডিজিজ) ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার এম এম আকতারুজ্জামান বলেন, “শীতের শেষে বৃষ্টিপাত কম থাকায় এডিস মশা কম থাকার কথা। “ঢাকায় এখন বৃষ্টিপাত নাই। তাই এখন এসব জায়গায় মশার ঘনত্ব অনেক কম থাকার কথা। সেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৯টি জায়গায় মশার উপস্থিতি বেশি। তার মানে যখন বৃষ্টিপাত শুরু হবে তখন এ সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে।”

এসব জায়গায় মশক নিধন কার্যক্রম জোরালো করতে দুই সিটি করপোরেশনকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান আক্তারুজ্জামান।

“বিষয়গুলো দুই সিটি করপোরেশনকে বলেছি। কাজেই তারা যদি এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। এখনই যদি লার্ভাকে ধ্বংস করতে পারে তাহলে প্রাপ্তবয়স্ক মশা হবে না। মানুষ নিস্তার পাবে।”

About admin

Check Also

বিমানবন্দরে সিলিং খসে পড়লো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাথায়

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সিলিং ধসে পড়ছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফের মাথায়। সেসময়ে …