Home | আন্তর্জাতিক | মুসলিমদের উপর হামলায় শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত

মুসলিমদের উপর হামলায় শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত

শ্রীলংকায় অব্যাহত মুসলিমবিরোধী দাঙ্গার কারণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহকে আইন-শৃঙ্খলা মন্ত্রীর পদ থেকে সরানো হয়েছে।প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপাল সিরিসেনার বিশেষ ক্ষমতাবলে তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেন বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।দেশটির বিভিন্ন শহরে বর্তমানে জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে। গত কয়েকমাস ধরেই সেখানে বৌদ্ধ সম্প্রদায় মুসলিমদের উপর একের পর এক হামলা করে আসছে।
এমনকি তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা চালিয়েছে বৌদ্ধরা।বর্তমানে পদটিতে রনিল বিক্রমাসিংহের ইউনাইটেড পার্টিরই প্রবীণ নেতা রঞ্জিত মাডুমা বান্দারাকে বসানো হয়েছে।জানা যায়, বিক্রমাসিংহের দায়িত্ব পালনের দিনগুলোতেই ক্যান্ডি জেলায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা মঙ্গলবার শ্রীলংকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

আরো পড়ুন >> যে কারণে মুসলিমদের ওপর সহিংসতা বন্ধ করতে পারছে না শ্রীলঙ্কা
শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে মুসলিমদের ওপর হামলা ও সহিংসতা ঠেকাতে আরও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। পুলিশ দাঙ্গা থামাতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের হামলাকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারগ্যাস ছুড়েছে। সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ সিনহালারা বিভিন্ন মসজিদ এবং মুসলিমদের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে।মুসলমানদের সঙ্গে বিবাদকে কেন্দ্র করে একজন বৌদ্ধ তরুণের মৃত্যুর খবরে তারা কারফিউ উপেক্ষা করে এসব হামলা চালায়। মসজিদ ও মুসলমানদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপর একের পর এক হামলার পর দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। পরে কারফিউর মেয়াদও বাড়ানো হয়। দেশটি ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ক্যান্ডিতে একটি পুড়ে যাওয়া বাড়ির ভেতর থেকে এক মুসলিম তরুণের মৃতদেহ পাওয়ার পর থেকে সেখানে মুসলিমরা প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠতে পারে এবং আবারো সংঘাত শুরু হতে পারে এমন আশংকা করছে কর্তৃপক্ষ।মধ্যাঞ্চলীয় ক্যান্ডি শহরে সপ্তাহ খানেক আগে গাড়ি সংক্রান্ত এক বিরোধের জেরে মুসলিমরা বৌদ্ধ এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যা করে। এরকম একটি অভিযোগের পর সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

গত সপ্তাহে আমপারে শহরেও মুসলিম মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদে হামলা চালানো হয়।কিছু কিছু এলাকায় সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ সিনহালারা মুসলিমদের মালিকানাধীন দোকানপাট ও বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সোমবার সেখানে পরিস্থিতি গুরুতর রুপ নিলে কারফিউ জারি করা হয়। কিন্তু পরে সেটি কিছু সময়ের জন্যে তুলে নেওয়া হয়। ২৪ বছর বয়সী এক মুসলিম তরুণের মৃতদেহ পাওয়ার যাওয়ার সাথে সাথেই সেখানে আবার সান্ধ্য আইন জারি করা হয়। মসজিদ, বাড়িঘর, দোকান এবং গাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।
স্থানীয় এক কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, সবকিছু ভেঙে ফেলা হয়েছে, মুসলিমরা এখন সেখানে আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। মঙ্গলবার আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি বাড়ির পাশে মুসলিম এক তরুণের মরদেহ উদ্ধারের পর সেখানে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

মুসলিমরাও প্রতিশোধ নিতে পাল্টা হামলা চালাতে পারে এই আশঙ্কায় পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১০ দিনের জন্য জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হয়।এছাড়াও ফেসবুকের মতো সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে যারা এ ধরনের সহিংসতায় উস্কানি দেবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ২০১২ সালের পর থেকে শ্রীলঙ্কায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। কট্টরপন্থী একটি বৌদ্ধ গ্রুপ বিবিএসের বিরুদ্ধে উত্তেজনায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

About admin

Check Also

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে প্রিয়াংকা চোপড়া

মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচাতে ছুটে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকে দেখতে বাংলাদেশ সফররত প্রিয়াংকা চোপড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ …