Home | জাতীয় | খালেদার উকিলের ‘গুরুতর আপত্তিকর’ বক্তব্যে আদালতের বিরক্তি

খালেদার উকিলের ‘গুরুতর আপত্তিকর’ বক্তব্যে আদালতের বিরক্তি

বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আদেশ চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলীর ‘গুরুতর আপত্তিকর’ বক্তব্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন আপিল বিভাগের একাধিক বিচারপতি।

বুধবার খালেদা জিয়ার আইনজীবী জামিন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আদেশ চাওয়ার পর আপিল বিভাগ এই ধরনের আদেশ দেয় না জানিয়ে তা নাচক করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

এরপর ‘আমরা একা এসেছি, দলবল নিয়ে আসিনি’ বলে বক্তব্য রেখে চাপাচাপি করেন বিএনপি নেত্রীর আইনজীবী এ কে মোহাম্মদ আলী। আর এই বক্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ উল্লেখ করে অসন্তোষ জানান একজন বিচারপতি।

এরপরও এ জে মোহাম্মদ আলী বক্তব্য চালিয়ে যেতে থাকলে আরেকজন বিচারপতি চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন।

সকালে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখে রায় দেয় আপিল বিভাগ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর ১২ মার্চ বিএনপি প্রধানকে চার মাসের জন্য এই জামিন দেয়া হয়। এর বিরুদ্ধে তখন আপিল করে নির্বাচন কমিশন আর রাষ্ট্রপক্ষ। দুই মাস চার দিনে সে আপিলের মীমাংসা হলো।

গত ৮ এবং ৯ মের শুনানি শেষে ১৫ মে খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আদেশ দেয়ার দিন ঠিক করে আপিল বিভাগ। তবে সেদিন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আবার শুনানি করায় আদেশ একদিন পেছায়।

বুধবার সকালেই খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখে। সেই সঙ্গে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বিএনপি নেত্রীর সাজার বিরুদ্ধে করা আপিলের মীমাংসা করার নির্দেশ দেয়া হয়।

এরপর জামিনের সংক্ষিপ্ত আদেশের কপি চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। তবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই আবেদন ফিরিয়ে দেয় করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ।

তখন আদালতে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী, কায়সার কামাল, মীর হেলাল উদ্দিন, নওশাদ জামির প্রমুখ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার জামিনের সংক্ষিপ্ত আদেশ চাচ্ছি। বেইল বন্ড (জামিননামা) দাখিলের জন্য সংক্ষিপ্ত আদেশ দরকার। আপনাদের আজকের রায় পত্র-পত্রিকায়, টিভিতে প্রচারিত হয়েছে। হয়ত আপনাদের (সুপ্রিম কোর্টের) নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। আপনাদের দিতে অসুবিধা নেই।’

বক্তব্যের বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তো আরও কয়েকটি মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট আছে। তাছাড়া আপিল বিভাগ থেকে এ ধরনের শর্ট অর্ডার দেওয়ার নজির নেই।’

বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, ‘এ ধরনের শর্ট অর্ডার দেওয়ার কোনো নজির নেই।’তখন প্রধান বিচারপতি খালেদার আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনার আবেদন রিফিউজ (প্রত্যাখ্যান) করা হলো।’

তখন এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘হাইকোর্ট বিভাগের রুলসে শর্ট অর্ডার দেওয়ার বিধান আছে।’

বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, ‘হাইকোর্টের বিধান কি আমাদের (আপিল বিভাগের) জন্য মানা বাধ্যতামূলক?’এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমি তা বলছি না। আপনারা চাইলে তা দিতে পারেন।’

প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, ‘আপনার আবেদন রিফিউজ করা হলো।’

এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমি তো একা এসেছি। দলবল নিয়ে আসেনি।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এটা কেমন কথা? দলবল নিয়ে আসলেই কি আমরা আদেশ দিয়ে দেই? দলবল দেখে আমরা আদেশ দেই না।’

তখন আপিল বিভাগের অপর বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার এ জে মোহাম্মদ আলীর মন্তব্যে উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনি গুরুতর আপত্তিকর কথা বলেছেন। আপনি আমাদের ফোর্স (জোর) করতে পারেন না। আপনারা ভুলে যান যে, কোর্টে আপনারা আইনজীবী। অফিসার অব দ্যা কোর্ট। কোন দলের লোক নন।’

জবাবে এজে মোহাম্মদ আলী তার মন্তব্যর জন্য আদালতের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

তখন আপিল বিভাগের আরেক বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এজে মোহাম্মদ আলীকে বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি যেখানে নাকচ করে দিয়েছেন, সেখানে আপনি তর্ক করছেন কেন?’

এরপর প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনার আবেদন আমরা বিবেচনা করতে পারলাম না। বিবেচনা করার সুযোগ নেই।’

About admin

Check Also

একজন এমপিকে তো চট করে ধরা যায় না : বদির বিষয়ে কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারাদেশের মানুষ খুশি, তবে শুধু গাত্রদাহ কাদের? বিএনপির। কেন? তারা এতো চিৎকার চেঁচামেচি করছে কেন? কারণ, তাদেরও লোকজনও মাদকে জড়িত। আর মাদক ব্যবসায়ীরা যেভাবে সিন্ডিকেট করে অস্ত্র নিয়ে মোকাবিলা করছে তাতে কি র্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহ