Breaking News
Home | সংবাদ | তাসফিয়া কীভাবে পতেঙ্গা গেল জানা যায়নি এখনো

তাসফিয়া কীভাবে পতেঙ্গা গেল জানা যায়নি এখনো

স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিনের মৃত্যু রহস্য উন্মোচনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে তাসফিয়ার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুলিশ এখন পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে এই মামলায় রিমান্ডে থাকা আসামি ফিরোজকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এরই মধ্যে গোয়েন্দা পুলিশ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী জেনেছে, তাসফিয়াকে হত্যা করা হয়নি। পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছিল তাসফিয়ার। মৃত্যুর আগে সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়নি।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশ এখন পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যালেচনা করছে বলে জানিয়েছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। সেখানে ধর্ষণ বা হত্যাকাণ্ডের আলামত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকরা।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাসফিয়ার সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এখন এসব পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর পরও কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজতে হচ্ছে উপসংহারে পৌঁছতে। তাই সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’ তিনি জানান, রিমান্ডে আসামি ফিরোজকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। খবর কালের কণ্ঠের।

নিহত তাসফিয়া আমিন ইংরেজি মাধ্যম সানশাইন স্কুলের নবম শ্রেণি এবং তার বন্ধু আদনান মির্জা এলিমেন্টারি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। গত ১ মে তারা নগরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে সন্ধ্যায় নাস্তা করতে নগরের গোলপাহাড় এলাকার চায়না গ্রিল নামের একটি রেস্টুরেন্টে গিয়েছিল। এরই মধ্যে বন্ধুর সঙ্গে ঘোরাফেরা করার বিষয়টি মায়ের কানে পৌঁছেছে এমন তথ্য জানতে পারে তাসফিয়া। এরপর দ্রুত রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে অটোরিকশায় উঠে তাসফিয়া। কিন্তু তাসফিয়া রাতে বাসায় ফেরেনি। তাসফিয়া না ফেরায় আদনানসহ তাসফিয়ার বাসার লোকজন রাতে তাকে হন্য হয়ে খোঁজে। পরদিন ২ মে সকালে পতেঙ্গা ১৮ নম্বর ঘাট থেকে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার হয়। দুপুরেই তাসফিয়ার পরিবার মরদেহটি শনাক্ত করে।
তাসফিয়ার মৃতদেহ উদ্ধারের পর তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে দাবি করেন তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন। এ কারণে তিনি তাসফিয়ার ছেলেবন্ধু স্কুলছাত্র আদনান মির্জাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আদনানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় অন্য আসামি ফিরোজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

এদিকে তাসফিয়ার মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করেনি পুলিশ। সাধারণত অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তারা মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করার সময় অনেক কিছুই বোঝতে পারেন। তাঁদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণেই দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা হত্যা নাকি অন্যকিছু তা আঁচ করতে পারেন। মরদেহ উদ্ধারের পর পরই তার শরীরের কাপড় এবং পুরো শরীর নারী পুলিশ সদস্যরা ভালোভাবেই দেখেছিলেন। ধর্ষণের বেশ কিছু আলামত দেখেই বোঝতে পারেন কর্মকর্তারা। শুরুতেই তাসফিয়ার শরীরে এ ধরনের কোনো আলামত ছিল না। ফলে পুলিশ কর্মকর্তারা অনেকটা নিশ্চিত ছিলেন, তাসফিয়া মৃত্যুর আগে ধর্ষণের শিকার হয়নি। কিন্তু তাসফিয়ার বাবা নিজেই মেয়েকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে দাবি করে মামলা দায়ের করায় পুলিশ কর্মকর্তারা তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।

শেষপর্যন্ত যে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ হাতে পেয়েছে তাতেও ডাক্তাররা মন্তব্য কলামে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি মর্মে উল্লেখ করেছেন। ডাক্তারদের মতামতের ভাষ্য অনুযায়ী, তাসফিয়ার মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে।
১ মে সন্ধ্যায় তাসফিয়া বাসায় না গিয়ে পতেঙ্গা কীভাবে গেল সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো খুঁজে পায়নি গোয়েন্দা পুলিশ। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে পানিতে ডুবে মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ থাকার পরও পুলিশ বলছে, কীভাবে তাসফিয়া পতেঙ্গা গেল সেটা বের করাও জরুরি। পুরোপুরি তদন্ত শেষ করার স্বার্থেই এটা প্রয়োজন। পাশাপাশি যে অটোরিকশায় তাসফিয়া পতেঙ্গা গিয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, সেই অটোরিকশার খোঁজও পায়নি পুলিশ।
/এসএম

About admin

Check Also

ত্রাণ মজুত আছে কিন্তু নেওয়ার মতো মানুষ নেই: ত্রাণমন্ত্রী মায়া

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন,  ১২ মাসের মধ্যে ৭ মাসই দুর্যোগে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *