Home | মতামত | ‘কূটনৈতিক অাকাশে অাজ শকুনের হানা’

‘কূটনৈতিক অাকাশে অাজ শকুনের হানা’

বিএনপির কূটনৈতিক দলের দিল্লী সফর এবং সে দলের মহানুভবতায় দিল্লীর সাংবাদিকদের সাথে খোলামেলা অালোচনা।

অামার ক্ষুদ্র দেখায় এ যাবৎ দেখে এসেছি, যে কোন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরুতে প্রয়োজনে গোপন রাখাই প্রথম শর্ত। কিন্তু অাজকাল এই ডিজিটাল যুগে, যেন এ প্রথম শর্তটি যেন ভূল হিসেবে প্রমানিত হচ্ছে। কারন, যদি ফেসবুক বা পত্রিকায় অামার তৎপরতা সম্পর্কে মানুষকে বা নিজ দলের লোকেদের অবহিত করতে না পারি,তাহলে নিজ দলে শেয়ার দরের মতো নিজের অবস্থানের সূচক পড়তির ধারায় যাবার শংকা থাকে। তবে, অাওয়ামীলীগের কূটনৈতিক তৎপরতা কিন্তু বিএনপির কূটনৈতিক দলের কাছে পরাজিত। কারন, তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গোপন থাকে।

সর্বোপরী এ মুহুর্তে কূটনৈতিক তৎপরতায় শুকুনের চোখ অথবা শনির দৃষ্টি পড়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তো স্বীকার করেই ফেলেছেন, তিনি যা ভারতকে দিয়েছেন তা ভারত চীরদিন মনে রাখবে। এর পরক্ষনেই বোধহয় বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর এই দেওয়াকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহন করে অতিরিক্ত কিছু দেবার জন্য হয়ত দিল্লীর দরবারে হাজির হন। অার অাজ এই ক্লান্ত বিকেলে খুব মনে পড়ে, যদিও অামি তার অাদর্শের সৈনিক নই। তবু্ও সত্যতাকে সন্মান জানিয়ে বলতে হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জানতে চেয়েছিলেন, অাপনার দেশের সেনাবাহিনী কবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরে যাবে। অার অন্যদিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অন্থিরতার সময়েও ভারতের সাথে সার্বভৌমত্ব অথবা কুটনৈতিক ক্ষেত্রে ন্যায্য হিসাব অাদায় করতে ভূল করেননি।

কিন্তু বর্তমানে কূটনৈতিক ভাবে অামাদের সরকার অথবা অামাদের দেশের বাস্তবিক ভাবে প্রধান বিরোধী দল যেন কোন কিছুই অর্জনের ক্ষেত্রে তেমন কিছু উল্লেখযোগ্যভাবে অর্জন করতে পারছে বলে অামার ক্ষুদ্র দৃষ্টিতে মনে হয় না। হয়ত এ অামার দৃষ্টির তারতম্য অথবা ভাবনার নেতিবাচকতা। এক্ষেত্রে অামি যদি কয়েকটি উদাহরন এখানে না তুলে ধরি, তাহলে নিজেকে নিজের কাছে অপরাধী মনে হবে। যেমন, এই যেমন সেদিন শুনলাম মমতাদি নাকি, অামাদের ভাষায় পানি অার তাদের ভাষায় জল চাইবেন বলে ইঙ্গিত প্রদান করেছেন। অার কত দিলে,অার কত ফেলানীর লাশ কাটাতারে ঝুললে মিলবে ন্যায়ের দেখা।

অথবা ভারতের অাসামীয় বাঙালী বাংলাদেশী বলে ভারতের অসাংবিধানিক ডিটেনশনে রাখার বিপরীতে অামাদের সমুদ্র বন্দর, অামাদের দেশের সড়ক ব্যাবহারের অনুমতি অথবা গার্মেন্টস শিল্পের তদারকি সংস্থায় ভারতীয় নাগরিকদের উচু চেয়ারে জায়গায় রাখার পরেও অামরা পাইনি অামাদের ন্যায্য হিস্যার পানি। এমনকি, বার্মার রোহিঙ্গাদের উপরে বিশ্ব স্বীকৃত খুন হত্যার পরেও অামাদের এ ছোট্ট দেশে মিলিয়নের অধিক লোক পাঠানোর পরেও পাইনি তাদের কাছ থেকে কোন ন্যায়সঙ্গত অাচরন। অামাদের পক্ষ হয়ে মানবতার পক্ষ হয়ে বার্মাকে প্রতিবাদ বা তিরস্কার করার মতোন কেউ দাড়াননি ।

অামার লেখার উদ্দেশ্য, মানুষের দৃষ্টি অাকষর্ন নয়,অথবা ভারত বিরোধীতার জন্য বিরোধীতা নয়। কারন অামার হৃদয়ের একটা অংশ জুড়ে ভারতের বাঙালী অথবা অনেক ভারতীয়দের সাথে ব্যাক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। কিন্তু তাই বলে অামি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের বিষয়ে কোন প্রশ্ন দেখা দিলে অামি এক বাংলাদেশী। অামার কাছে তখন পৃথিবীর যে কোন সম্পর্কই অত্যন্ত গৌন। এবার দৃষ্টি দেয়া যাক চীনের ভূমিকার দিকে। একময় প্রবাদ ছিল যে, অাওয়ামীলীগের ভারত থাকলে, বিএনপির অাছে চীন। কিন্তু অাজ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ প্রবাদের দ্বিতীয় অংশটুকুন যেন ইতিহাস হয়ে গেছে। অার এ সুযোগে বর্তমান সরকার ভারতের পাশাপাশি চায়নাকে তুষ্ট করার লক্ষে অনেকের চোখ রাঙ্গানীকে পাশ কাটিয়ে সমুদ্র বন্দর অথবা বাংলাদেশের বড় ব্যাবসায়ীক টেন্ডার চায়নার হাতে তুলে দিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে মনে হয়েছিল, বাংলাদেশ যেন কুটনৈতিক সফলতার এক উচ্চ স্থরে পৌছেঁছে।

কিন্তু হায়রে পোড়া কপাল অামার,বিধি অামার বাম। রোহিঙ্গা প্রশ্নে চীনও ভারতের মতন অবস্থান গ্রহন করলো। ঠিক যে ভাবে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে অরাজকতা তৈরীর ক্ষেত্রে সবার মুখে মুখে রচিত অাছে বিদেশী দুই রাষ্ট্র পরস্পর বিরোধী হলেও অামার এ শিল্পের অরাজকতায় তারা এক অকৃত্রিম বন্ধু। তবে এতকিছুর পরেও যখন দেখি,ভারতে রশীদি তার ছেলের লাশ দাফনে বিলম্ব করেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য কড়া ও অান্তরিক পদক্ষেপ গ্রহন করেন। পশ্চিমবঙ্গের বনগাও অঞ্চলে এক রোজাদার মুসলিম যুবক হিন্দু রোগীকে বাচাঁনোর জন্য রোজা ভেঙ্গে রক্ত দেন। ভারতের এক মুসলিম লোক অাত্বীয় স্বজনের পরিচয় না পাওয়া এক মৃত হিন্দু মানুষের মুখাগ্নি করেন, পুরোহিতের শিখিয়ে দেয়া মন্ত্র পড়ে। শ্রাদ্ধ সম্পাদন করেন। সেই নিজ নিজ দেশের মানুষরাই পারে ব্যার্থ সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রত্যাক্ষান করে নতুন কিছু তৈরী করে বিশ্ব মানবতায় নিজেদের অবস্থানকে প্রমান দেয়া। অাসুন ঘুনে ধরা ব্যাবস্থাকে প্রতিরোধ করে অামরা নতুনের দিকে ধাবিত হই। যেখানে রাজনীতিবিদরা রাজনীতি, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা, সেনাবাহিনী শুধু নিজ দায়িত্ব পালন করবে। -বিপ্লব কুমার পোদ্দার

About admin

Check Also

দেশে মাথাপিছু ঋণের বোঝা ৪০ হাজার টাকা

বিভাগের সময় এর সংখ্যা ছিল চার কোটি। ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের সময় ছিল সাড়ে …