Home | বিশেষ প্রতিবেদন | ‘দয়া কইরা রিলিজ দেন, বাড়িত গিয়া মাইয়ার কবরটা দেহি’

‘দয়া কইরা রিলিজ দেন, বাড়িত গিয়া মাইয়ার কবরটা দেহি’

‘আর কত টানা হেঁচড়া করবেন, দয়া কইরা আমারে রিলিজ দেন, বাড়িত গিয়া বাচ্চার কবরটা দেহি।’ এ করুণ আকুতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হতভাগিনী মা শারমিনের। যে মায়ের জীবিত সন্তানকেই চিকিৎসকরা ‘ভুল’ করে মৃত ঘোষণা করেছিল। দাফন করার আগে কবরস্থানে গোসলের সময় নড়েচড়ে উঠেছিল তার সন্তানটি। পরবর্তীতে ঢাকা শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসকরা নবজাতককে বাঁচিয়ে তুলতে প্রচেষ্টা চালালেও নবজাতকটি মারা যায়।
গত ছয়দিন (২১ এপ্রিল দিবাগত রাত থেকে) ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শারমিন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছে।

সে প্রতিদিনই ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছে রিলিজ দিতে অনুরোধ জানাচ্ছেন। কিন্তু তাকে রিলিজ দেয়া হচ্ছে না।
শুক্রবার রাতে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তার ভাই শরিফুল বলেন, বাড়ি ফিরে মেয়ের কবরটি দেখার জন্য শারমীন ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। আজ সে কয়েকদফা কান্নাকাটিও করেছে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বললে রিলিজ পাবে আবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে চিকিৎসকরা বললে তবেই রিলিজ দেয়া হবে। ইতোমধ্যেই তারা তদন্ত কমিটির কাছে সব তথ্যপ্রমাণ জমা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বোনের কান্না সহ্য করতে না পেরে শরিফুল আজ তদন্ত কমিটির প্রধান হাসপাতালের উপ-পরিচালক ও চার সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান বিদ্যুত কান্তি পালের কাছে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আজ (শনিবার) মেডিকেল বোর্ড সদস্যরা মিটিং করে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে পারে। এরপর রিলিজ দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন। তবে এ আশ্বাসেও খুশি হয়নি তার বোন। এখনও কান্নাকাটি করছে।

শরিফুল জানান, ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে তার বোনকে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর চিকিৎসকরা রক্তসহ কয়েক প্রকার টেস্ট করে জানান, রোগীর অবস্থা খুব খারাপ। দ্রুত রক্ত ও প্লাটিলেট সংগ্রহ করতে বলেন। এ সময় তারা তিন ব্যাগ রক্ত ও প্লাটিলেট এনে দেন। পরদিন রাতের বেলায় ডাক্তাররা আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, রোগীর পেটে বাচ্চার বেঁচে থাকার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। পরে ভোরের দিকে ইনজেকশন দিয়ে পেইন (ব্যথা) উঠিয়ে নরমাল ডেলিভারি করান।

তিনি জানান, নবজাতক শিশুটির মৃত্যুসনদ লিখে দেন। তারা নবজাতককে একটি কাগজের কার্টনে রেখেছিল। শরিফুল তার এক বন্ধুকে নিয়ে কবরস্থানে গিয়ে নাম ঠিকানা লিখিয়ে টাকা জমা দিয়ে ওজু করতে যান। এ সময় ডেডবিড ড্রেসার মহিলা এসে জানান, শিশুটি মরেনি বেঁচে আছে। পরে প্রথমে আজিমপুর মেটারনিটি ও ঢাকা শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান।
শরিফুল বলেন, নবজাতক শিশুটি জন্মগ্রহণ করার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তিনি বলেন, ভাগ্নে চলে গেছে কিন্তু এর মাধ্যমে চিকিৎসকদের ভুল ধরা পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এমইউ/জেএইচ
 
 
 
 
 
 
 

About admin

Check Also

জিয়া হত্যাকাণ্ড: যে রহস্যের জট খোলেনি

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করার পর এর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *