Home | সারা দেশ | পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীর যৌতুক-পরকীয়ার প্রতিবাদে সন্তানের জননীর অবস্থান

পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীর যৌতুক-পরকীয়ার প্রতিবাদে সন্তানের জননীর অবস্থান

বাঁ থেকে পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ এবং প্লেকার্ড নিয়ে অবস্থান নেয়া স্ত্রী রিতা ও শিশুপুত্র আনন্দ
গাজীপুরের শ্রীপুরে পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীর যৌতুক, নির্যাতন ও পরকীয়ার প্রতিবাদ জানাতে এক নারী মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যে অবস্থান নিয়েছেন। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ওই গৃহবধূ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয়ের ‘স্মৃতিসৌধ-৭১’-এ অবস্থান নেন। এ সময় তার একমাত্র ছেলে আনন্দ (৪) সঙ্গে ছিল।

গৃহবধূ রিতা আক্তার পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল আজিজের স্ত্রী। আব্দুল আজিজ চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুয়াটোবা গ্রামের আব্দুছ ছাত্তারের ছেলে। তিনি এখন খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ লাইনে চাকরি করছেন।
গৃহবধূ রিতা আক্তার জানান, গত প্রায় পাঁচ বছর থেকে তার স্বামী তাকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকেন। যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান।

বাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি থেকে নগদ সাড়ে তিন লাখ ও কমপক্ষে তিন লাখ টাকার আসবাবপত্র যৌতুক হিসেবে এনে দেন। তত দিনে কনস্টেবল থেকে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে পদোন্নতি পান আজিজ।
এরপর পুলিশ কর্মকর্তা স্বামী আজিজ পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে আবারও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর, শীতকালে রাতের পর রাত ভেজা কাপড় গায়ে জড়িয়ে দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা, খাবার খেতে না দেয়াসহ নানাভাবে নির্যাতন শুরু করেন।

পরকীয়ায় বাধা দিলে খুন করে লাশ গুমেরও হুমকি দেন আজিজ। উপায়ান্তর না পেয়ে গৃহবধূ পুলিশ সদর দফতরে অভিযোগ করেন। সেখান থেকে অত্যাচার না করার শর্তে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে আসেন আজিজ।
গত বছরের ১৫ মার্চ পুলিশ কর্মকর্তা আজিজ তার বাড়ি চাঁদপুরে স্ত্রী রিতাকে নিয়ে আরও দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। তা দিতে না পারলে সংসার না করার হুমকি দিয়ে গৃহবধূকে তার বাবার বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া গ্রামে পাঠিয়ে দেন।
গৃহবধূ নিজে এবং তার সন্তানকে ভরণপোষণ করতে না পেরে আবারও পুলিশ সদর দফতরে অভিযোগ করেন।

এদিকে যৌতুকের দাবি থেকে রক্ষা পেতে ঢাকা মহানগর হাকিমের আদালতে তিনি বিচার প্রার্থনা করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল আজিজ বলেন, অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। আজকাল স্ত্রীলোকের সঙ্গে সামান্য সমস্যা হলে তারা যৌতুকের অভিযোগ তোলে। এসব বিষয়ে পুলিশ বিভাগ তদন্ত করছে। তদন্ত প্রতিবেদনেই প্রমাণ পাওয়া যাবে।
গত ২০০৯ সালে পুলিশ কর্মকর্তা আজিজ ও রিতার বিয়ে হয়। রিতার স্থায়ী ঠিকানা ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা গ্রামে। বর্তমানে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া গ্রামে বসবাস করছেন তিনি।

About admin

Check Also

উট দেখতে সিমলার বাড়িতে মানুষের ভিড়

আসন্ন কোরবানীর ঈদে ‘ম্যাডাম ফুলি’ খ্যাত চিত্রনায়িকা সিমলার কোরবানীর পশু মরুভূমির জাহাজ বলে পরিচিত উট। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *