Breaking News
Home | সারা দেশ | নেত্রকোনায় মাকে গোয়ালে আটকে রেখে নির্যাতন!

নেত্রকোনায় মাকে গোয়ালে আটকে রেখে নির্যাতন!

জমি লিখে না দেয়ায় ছেলের নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধা মা ফসর বানু। ছবি: যুগান্তর
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় জমি লিখে না দেয়ায় বৃদ্ধা মা ফসর বানুকে (৮৫) গোয়ালঘরে বন্দি করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার ছেলে সবুজ ও পুত্রবধূ সাহেদার বিরুদ্ধে।

উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের একটি দলিল দেখিয়ে মা ফসর বানুর অংশের জমি জোরপূর্বক দখলে নেয়ার চেষ্টা চালায় পাষণ্ড ছেলে সবুজ। এতে ফসর বানু বাদী হয়ে আদালতে দলিল বাতিল চেয়ে মামলা করেছেন।
রোববার বিকালে ফসর বানু বলেন, তার স্বামী আমজত আলী প্রায় ১০ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। রহিমা, আফরোজা, মিনা, স্বপ্না, শাবানা নামে পাঁচ মেয়ে ও হান্নান, আক্কাছ, সবুজ নামে তার তিন ছেলে রয়েছে।

ফসর বানুর মেয়ে মিনা পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করলে তার ভাই সবুজ মায়ের ওপর ক্ষিপ্ত হতে থাকে। তার অন্যতম কারণ সবুজ মায়ের জমিটুকুও লিখে নিতে চায়। মা ফসর বানু জমি লিখে দিতে না চাইলে তার ওপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন।
সবুজ ও তার স্ত্রী সাহেদা মিলে মাকে গোয়ালঘরে আটকে রেখে দফায় দফায় নির্যাতন করতে থাকে। ফসর বানুর নামে একটি বয়স্কভাতার কার্ডের টাকাও উত্তোলন করে হাতিয়ে নেয় সবুজ।

ফসর বানুর প্রতিবেশীরা জানায়, রোববার মা ফসর বানুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেত দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেছে পাষণ্ড ছেলে সবুজ। এ সময় প্রতিবেশীরা ওই বৃদ্ধাকে রক্ষা করতে গেলে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে ফসর বানুর মেয়েরা এ ঘটনার খবর পেয়ে মাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা করাতে চাইলেও হাসপাতালে নিতে দেয়নি সবুজ।

প্রতিবেশী জরিনা বেগম বলেন, জমি লিখে না দেয়ায় ফসর বানুর ছেলে সবুজ দীর্ঘদিন ধরে তার মাকে মারপিট করে আসছে। সে মাঝেমধ্যেই তার মাকে গোয়ালঘরে আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়েছে। গ্রামের অনেকেই এই নির্যাতনের প্রতিবাদের চেষ্টা করলেও সবুজ এলাকার কোনো মানুষকেই তোয়াক্কা করছে না।
ইউপি সদস্য মঞ্জুরুল হক বলেন, এ বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর দাবি সবুজকে যেন আইনের আওতায় আনা হয়।
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে অভিযুক্ত সবুজ বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি শুনেছি, আমরা খতিয়ে দেখছি। সবুজ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার মা ফসর বানুর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

About admin

Check Also

শব্দের বিভ্রাট হলেই কি রাষ্ট্রদ্রোহিতা হয়ে যায়: জাফরুল্লাহ

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, শব্দের বিভ্রাট হলেই তা রাষ্ট্রদ্রোহিতা হয়ে যায়? আমাদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *