Breaking News
Home | সারাদেশ | প্রাইভেট শিক্ষকের লালসার শিকার হয়ে শিশুর পেটে অনাগত শিশু

প্রাইভেট শিক্ষকের লালসার শিকার হয়ে শিশুর পেটে অনাগত শিশু

এখনো মায়ের আচল ধরে হাঁটে শিশুটি। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশুটি স্কুলব্যাগের ভার বহন করতেই যখন হাঁসফাঁস অবস্থা, তখন সেই শিশুই পেটে বহন করে বেড়াচ্ছে আরেকটি অনাগত শিশু।

চিকিৎসক জানিয়েছেন, আগামী ২৭ জুন শিশুটির মা হওয়ার সম্ভাব্য সময়। শিশুটির এ সর্বনাশ করেছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের ভাদুরিয়া ইউনিয়নের সাইদুর রহমানের ছেলে প্রাইভেট শিক্ষক রবিউল ইসলাম (২৩)।

পরিবারের অভিযোগ, কলেজে পড়া প্রতিবেশী তরুণ রবিউল ইসলামের কাছে পড়তে গিয়ে তাঁর কাছেই একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা গত ৭ জানুয়ারি নবাবগঞ্জ থানায় ওই তরুণের নামে মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহিন আলম তদন্ত শেষে গত ১৯ মার্চ রবিউলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। মামলার পর রবিউল এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।

১৩ বছর বয়সী ওই শিশুটির বাসায় গিয়ে দেখা যায়, পুষ্টিহীনতায় ভুগছে মেয়েটি। হতদরিদ্র মা-বাবা পারছেন না তার চিকিৎসা করাতে। ভালোমন্দ জিজ্ঞাসা করতেই দুই চোখ বেয়ে পানি ঝরতে থাকে তার।

মা জানালেন, সারাক্ষণ শুধু কাঁদে আর কাঁদে। এ ঘটনার পর লোকলজ্জায় বাড়ি থেকে বের হয় না শিশুটি। তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রামের সামাজিকতার কারণে প্রায় একঘরে হয়ে পড়েছে চাতাল শ্রমিকের এই পরিবারটি।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, মেয়েটি প্রতিবেশী রবিউল ইসলামের কাছে পড়তে যেত। একা পড়ানোর সুযোগ নিয়ে একদিন ভয়ভীতি দেখিয়ে গত সেপ্টেম্বরে প্রথম ধর্ষণ করা হয় তাকে। বিষয়টি কাউকে না জানানোর হুমকিও দেয় রবিউল। পরে আবারও কয়েকবার মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়। ভয়ে সে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর হঠাৎ শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওই সময় মায়ের কাছে ঘটনা খুলে বলে সে। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তার আলট্রাসনোগ্রাম করানো হলে সে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত হয় পরিবার।

About admin

Check Also

‘পুলিশের সামনে’ মুক্তিপণ লেনদেন, তবুও ফেরেনি আলাউদ্দিন

অপহরণের পর পুলিশের উপস্থিতিতে মুক্তিপণ দিয়েও কিশোর সন্তানকে ফিরে পাননি বলে অভিযোগ করেছেন ফরিদপুরে এক …