Breaking News
Home | সারাদেশ | ‘হত্যার পরেই শ্যুটারদের দেওয়া হয় ১ লাখ টাকা ’

‘হত্যার পরেই শ্যুটারদের দেওয়া হয় ১ লাখ টাকা ’

বাড্ডার আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ আলী হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৫ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। তারা হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন পুলিশের কাছে।
১৪ জুলাই শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন। তিনি জানান, শুক্রবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) গুলশান ও মিরপুর শাহআলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতদের নাম- জাকির হোসেন, আরিফ মিয়া, আবুল কালাম আজাদ ওরফে অনির, বদরুল হুদা ওরফে সৌরভ ও বিল্লাল হোসেন ওরফে রনি।

ঘটনা সম্পর্কে বর্ণনা দিয়ে আবদুল বাতেন বলেন, ‘চলতি বছরের ১৫ জুন বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ আলীকে বাড্ডা থানাধীন আলীর মোড় এলাকায় মসজিদের সামনে অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারীরা গুলি করে হত্যা করে। উক্ত ঘটনায় বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। এই ঘটনার পরে থানা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ তদন্ত শুরু করে।’

এরই প্রেক্ষিতে গত ১০ জুলাই এই হত্যা মামলার আসামি জহিরুল ইসলাম সুজনকে গ্রেফতার করার পর তাকে আদালতে পাঠালে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।
উদ্ধারকৃত চারটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, চারটি ম্যাগাজিনসহ ১২ রাউন্ড গুলি।
জহিরুল ইসলামের জবানবন্দীর ভিত্তিতে ১৩ জুলাই সন্ধ্যায় ডিবি উত্তর বিভাগের একটি দল গুলশান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাকির হোসেন ও আরিফ মিয়াকে গ্রেফতার করে। এ সময় জাকির হোসেনের কাছে থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি এবং আরিফ মিয়ার কাছে থেকে ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।

তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক মিরপুরের শাহআলী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আবুল কালাম আজাদ ওরফে অনির, বদরুল হুদা ওরফে সৌরভ ও বিল্লাল হোসেন ওরফে রনিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের প্রত্যেকের কাছে থেকে ১টি করে মোট ৩টি বিদেশি পিস্তল ও ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন দাবি করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, অটোরিকশা স্ট্যান্ড ও ডিস ব্যবসায়ীদের নিকট হতে চাঁদা আদায়ের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধে ফরহাদ আলী খুন হয়। সন্ত্রাসী রমজান, মেহেদী ওরফে কলিন্স ও আশিক (প্রত্যেকে বিদেশে পলাতক) হত্যার পরিকল্পনা করে। হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে রমজান ভারতে চলে যায়, রমজান তার আপন ছোট ভাই সুজন এবং অপর দুইজন সহযোগী জাকির ও আরিফের ওপর হত্যাকাণ্ড সংঘটনের দায়িত্ব দেয়। মেহেদীর বাংলাদেশে সামরিক কমান্ডার অমিত তাদের ভাড়াটে শ্যুটার নুর ইসলাম, অনির, সৌরভ, সাদকে দায়িত্ব দেয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ জুন সকালের দিকেই অমিতসহ শ্যুটাররা উত্তর বাড্ডার সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে সমবেত হয়।

আবদুল বাতেন জানান, অমিতের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হয় নুর ইসলাম, অনির ও সৌরভ মূল কিলিং মিশনে অংশ নেবে। আর অমিতের সঙ্গে ব্যাকআপ হিসেবে থাকবে সাদ ওরফে সাদমান। আনুমানিক বেলা ১২টার দিকে রমজানের ছোট ভাই সুজন কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী তিনজন শ্যুটার ও ব্যাকআপ সাদকে জাকিরের সঙ্গে অস্ত্র নিতে একটা রিকশা গ্যারেজে পাঠায়। চারজনকেই অস্ত্র বুঝিয়ে দেয় মেহেদীর অন্যতম আস্থাভাজন পুলক ওরফে পলক। এরপর জাকির তাদেরকে নিয়ে আরিফের কাছে পৌঁছে দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার দাবি করেন, আরিফ শ্যুটারদের মসজিদের কাছে নিয়ে ফরহাদকে চিনিয়ে দেয়। নামাজ শেষে ফরহাদ মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই গুলি করে পালিয়ে যায় শ্যুটাররা। পরবর্তীতে তাদের অস্ত্রগুলো অমিতের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য পল্লবী এলাকায় যায়। সেখানে অমিত তার অপর সহযোগী সুজনের মাধ্যমে অস্ত্রগুলো গ্রহণ করে। অমিত তাৎক্ষণিকভাবে এক লাখ টাকা শ্যুটারদের মাঝে বণ্টন করে দেয়। হত্যাকাণ্ডের পর দেশ ত্যাগ করে রমজানের ছোট ভাই সুজন।

৪ জুলাই দিবাগত মধ্য রাতে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাতনামা দুজন নিহত হয়। পরবর্তীতে তাদের পরিচয় জানা যায়। এদের একজন ফরহাদ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম শ্যুটার ভিডিও ফুটেজে লাল গেঞ্জি পরিহিত নুর ইসলাম ও মেহেদীর সামরিক কমান্ডার অমিত।

About admin

Check Also

নির্বাচনের আগে সংলাপের সুযোগ নেই: ইসি সচিব

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপের আর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে তিনি আরও জানান, জাতীয় নির্বাচনের ৮০ ভাগ প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিস্তারিত আসছে...