Home | খেলাধুলা | আমজাদের পতাকা দেখতে মাগুরায় জার্মান কূটনীতিক

আমজাদের পতাকা দেখতে মাগুরায় জার্মান কূটনীতিক

জার্মান ফুটবল দলের ভক্ত মাগুরার আমজাদ হোসেনের পতাকা দেখতে সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে এসেছিলেন জার্মান দূতাবাসের দুই কর্মকর্তা। মঙ্গলবার সকালে নিশ্চিন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আমজাদ হোসেন তার সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘের পতাকা প্রদর্শন করেন। যেখানে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান দূতাবাসের কূটনীতিক কারেন উইজোরা ও শিক্ষা-সংস্কৃতিক কর্মকর্তা তামারা কবির।

নিশ্চিন্তপুর হাইস্কুল মাঠে এই প্রদর্শনীতে আরো ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট হাসান সিরাজ সুজা, স্থানীয় চাউলিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান ও জার্মান ফ্যান গ্রুপের সাইফুল ইসলাম কৌশিকসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানে জার্মান দূতাবাসের দুই কর্মকর্তা জানান, তারা আমজাদের এই ফুটবল ও জার্মান দল প্রীতিতে মুগ্ধ। তাদের জানা মতে, তাদের ফুটবল দলের সমর্থনে এটাই সম্ভবত বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ পতাকা। এ জন্য তারা আমজাদ হোসেন ও বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞ। মাগুরায় এটাই তাদের প্রথম সফর নয়, গত ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে সাড়ে তিন কিলোমিটার দৈর্ঘের পতাকা দেখতে জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফায়ার্স এখানে এসেছিলেন।

আমজাদ অনুষ্ঠানে জানান, এই পতাকা অভিযান চলবেই। এ বছর বিশ্বকাপে জার্মান চ্যাম্পিয়ন হলে ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা বানাবেন তিনি- যা মাগুরা ভায়না থেকে সীমাখালী পর্যন্ত প্রদর্শিত হবে।

আমজাদ হোসেন মাগুরার সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের নেহাল উদ্দিন মোল্যার ছেলে। পেশায় একজন সাধারণ কৃষক। ১৯৮৭ সালে তিনি কঠিন রোগে আক্রান্ত হন। সে সময় অনেক রকম চিকিৎসা নিয়েও কোন সুফল পাননি। অবশেষে মাগুরার মনোরঞ্জন কবিরাজ নামে আয়ুর্বেদিক এক চিকিৎসকের পরামর্শে জার্মানের হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেবনের পরই তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। তারপর থেকেই আমজাদ হোসেন জার্মানের প্রতি আসক্ত হয়ে ওঠেন। সেই সূত্র ধরেই বিশ্বকাপে জার্মান ফুটবল দলের ভক্ত হয়ে গেছেন তিনি। যার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আমজাদ হোসেন নিজ খরচে তৈরি করেছেন এই পতাকা।

আমজাদ হোসেন জানান, ২০১৪ সালে সাড়ে তিন কিলোমিটারের পতাকা তৈরির জন্য তিনি প্রথম তার গ্রামের এলাহির কাছে ২০ শতক জমি বিক্রি করেন। কিন্তু সেই টাকার বেশিরভাগ অন্যকাজে খরচ হয়ে যায়। যে কারণে দ্বিতীয় দফায় তার ভাতিজা মিজানুরের কাছে ৩০ শতক জমি বিক্রি করেছেন।

যার ভেতর থেকে দেড় লাখ টাকা ব্যয় করেন ওই পতাকা তৈরির জন্য। প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই পতাকা তৈরির জন্য তিনি শহিদুল ইসলাম রেন্টু, জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাইদ মোল্যা নামে তিনজন দর্জিকে এই কাজে নিয়োগ করেন। যাদেরকে মজুরি হিসেবেই দিতে হয়েছিল প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এবার ওই দর্জিসহ নতুন কিছু দর্জি নিয়ে তৈরি করেছেন সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পতাকা। যেখানে খরচ হয়েছে দুই লক্ষাধিক টাকা। এজন্যে এবার তিনি ১০ শতক জমি বিক্রি করেছেন। তবে টাকা খরচের বিষয় নিয়ে তিনি মোটেই চিন্তিত নন। জার্মান বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হলে বরং আরো বেশি টাকা খরচ করে জমকালো অনুষ্ঠান করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
আমজাদ মনে করেন, তার পতাকার তৈরির বিষয়টি বিশ্বে বাংলাদেশকে নতুন এক পরিচয়ে পরিচিত করছে। তা হচ্ছে এদেশের মানুষের ফুটবল প্রেম।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে নিজের ৩০ শতক জমি বিক্রির আড়াই লাখ টাকা দিয়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই পতাকা তৈরি করেন কৃষক আমজাদ হোসেন। পরবর্তীতে জার্মান ফুটবল দল চ্যাম্পিয়ন হলে সে দেশের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিজে মাগুরার ঘোড়ামারা গ্রামে আমজাদের বাড়িতে ছুটে এসেছিলেন। ১২ জুলাই ১৪ সালে জার্মান চার্জ দ্য আফেয়ার্স ড. ফার্দিনান্দ ফন ফার্সি ওয়েহে তাকে মাগুরা স্টেডিয়ামে জার্মানের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও লিখিতভাবে জার্মান ফ্যান ক্লাবের সদস্য পদ দেন। বিশ্বকাপে জার্মান দলের জয়ে আমজাদ হোসেন গণভোজের আয়োজন করেন। যা বাংলাদেশ, জার্মান ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়।

About admin

Check Also

‘ব্রাজিল–সমর্থকদের রিকশায় তুলি না’

আর্জেন্টিনার পাঁড় সমর্থক তিনি। রিকশা চালান ঢাকা শহরে। নিজের রিকশাটা সাজিয়েছেন আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা রঙে। আত্মবিশ্বাসী …