Breaking News
Home | টেলিগ্রাফ | তৃতীয় শক্তির জোট গঠনে ঐক্যমত, ঈদের পর জাতীয় সমাবেশে আত্মপ্রকাশ
দীর্ঘদিন থেকে রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন দুই জোটের বাইরে তৃতীয় শক্তির জোট গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে। চলতি বছর ডিসেম্বরে সম্ভাব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই জোট গঠনের পালে নতুন করে হাওয়া লেগেছে। ১৪ দলীয় জোট আর ২০ দলীয় জোটের বাইরে ছোট রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়েছে বহুদূর। নিজেদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ায় তৃতীয় শক্তি হ

তৃতীয় শক্তির জোট গঠনে ঐক্যমত, ঈদের পর জাতীয় সমাবেশে আত্মপ্রকাশ

দীর্ঘদিন থেকে রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন দুই জোটের বাইরে তৃতীয় শক্তির জোট গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে। চলতি বছর ডিসেম্বরে সম্ভাব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই জোট গঠনের পালে নতুন করে হাওয়া লেগেছে। ১৪ দলীয় জোট আর ২০ দলীয় জোটের বাইরে ছোট রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়েছে বহুদূর। নিজেদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ায় তৃতীয় শক্তি হিসেবে ঈদের পর জাতীয় সমাবেশে ডেকে বড় একটি রাজনৈতিক জোট আত্মপ্রকাশে ঐক্যমত হয়েছে নেতারা। এ জোটের প্রস্তাবিত নাম ‘যুক্তফ্রন্ট’।
তৃতীয় শক্তি গঠনে বেশ কয়েকটি ছোট রাজনৈতিক দল ঐক্য নিয়ে কথা বললেও মতের ঐক্য না হওয়ায় নেতারা এক প্ল্যাটফরমে আসতে পারেননি। এবার একটি মাত্র ইস্যু সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ হতে চাইছেন তারা। ইস্যুট হলো দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। রমজান মাসের ইফতার পার্টিকেন্দ্রিক রাজনীতিতে তৃতীয় বৃহৎ রাজনৈতিক জোট গঠনে একমত হয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন,

বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব। এসব দল ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট নাগরিকদেরও এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে। মূলত নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহৎ নির্বাচনী জোট গড়ে তুলাই তাদের লক্ষ্য।
যুক্তফ্রন্ট নামের এই রাজনৈতিক জোটে আরো অন্তর্ভক্ত হতে পারে খালেকুজ্জামানের বাসদ ও সাইফুল হকের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। এই জোটে অন্তভুক্ত হতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সঙ্গে উদ্যোক্তারা কথা বললেও তাতে ইতিবাচক সাড়া মিলেনি। এইধারায় সিপিবিকে যুক্ত না করে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বামপন্থি দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচনের আগে ‘গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা’ গঠন করতে চাইছেন। তবুও যুক্তফ্রন্টের উদ্যোক্তারা তার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধা্ন্ত নিয়েছে বলে সূত্র জানৈয়ৈছে।

তৃতীয় শক্তির এই জোট ভোটের আগে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের পাশাপাশি যুগপৎআন্দোলনে মাঠে নামার অাভাস দিয়েছে।এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা বিরোধী জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের বাইরে থাকা এসব দলের নেতারা প্রায়শই ২০ দল বা সমমনা দলের রাজনৈতিক সভা সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।
এমনকি বিএনপি ঘরানার বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচিতেও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। রাজনীতিবিদদের সম্মানে আয়োজিত বিএনপির ইফতার মাহফিলে ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা অংশ নেন। যদিও ওই অনুষ্ঠানে সাবেক প্রেসিডেন্ট একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর তার বক্তব্যে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ার প্রসঙ্গ এনে অনেকটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। পরে অবশ্য তিনি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

সর্বশেষ রোববার (২৭ মে) নাগরিক ঐক্যের ইফতার মাহফিলে ঐক্য প্রক্রিয়ার শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। এতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উপস্থিত ছিলেন। ওই ইফতার পার্টিতে দেয়া বক্তব্যে নেতারা প্রায় সবাই জাতীয় ঐক্যের আহবান জানান। নেতারা বলছেন, সরকারের বাইরে থাকা প্রায় সব দলের মধ্যে বৃহৎ ঐক্যের বিষয়ে চিন্তা করছেন তারা। আর এটি নির্বাচনের আগেই হবে। তবে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতকে কোনভাবেই এই রাজনৈতিক ঐক্যে স্থান দেয়া হবে না বলে উদ্যোক্তরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
যুক্তফ্রন্ট নামের নতুন এই রাজনৈতিক কোজেটর বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। মানুষ ভোটাধিকার হারিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের দমন, নিপীড়ন, দুর্নীতি ও দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায় এ দেশের মানুষ। তাদের সংগঠিত করে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে আমরা জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের জোট শরিক এবং জামায়াত ছাড়া অন্য সব দলের মধ্যে এই ঐক্য গড়ার প্রক্রিয়া চলছে। আশা করি নির্বাচনের আগেই তেমন একটি বৃহৎ ঐক্য গড়ে উঠবে। এবং এই ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এদেশে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন আদায় করা হবে।

তৃতীয় শক্তির এ জোট গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দুই জোটের বিপরীতে নতুন একটা রাজনীতিক জোট গড়ার প্রক্রিয়া চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষও সেটা চাইছে। আমরা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে পথ চলা শুরু করেছি। আমরা মানুষের কাছে যাব। আশা করছি দুই রাজনৈতিক জোটের বাইরে বৃহৎ শক্তি নিয়ে আমরা রাজনীতিতে আর্বিভূত হতে পারব।
তিনি বলেন, প্রক্রিয়ার শুরুর দিকে ড. কামাল হোসেন জড়িত থাকলেও ঘোষণার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তবে পরবর্তীতে আমাদের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আশা করছি রমজানের পরে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকব।

এদিকে তৃতীয় শক্তির এই জোটকে বিএনপি স্বাগত জানাবে বলেই মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর । রোববার (২৭ মে) নাগরিক ঐক্যের ইফতার ইফতারে যোগ দেওয়া বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশে গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে এনে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্তির দাবিতে নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মতো আরেকটি যুগপৎ আন্দোলননের বিকল্প নেই। তাই তৃতীয় কোনো জোট গঠিত হলে বিএনপি তাদের নিয়ে জাতীয় দাবি নিয়ে মাঠে নামতে চায়।
সূত্র জানিয়েছে, তৃতীয় রাজনৈতিক জোট গঠনের চেষ্টায় থাকা দলগুলো আগামী নির্বাচনের আগেই তাদের জোটসঙ্গী চূড়ান্ত করতে চায়। পৃথক জোট গঠন এবং বিরোধী জোটের সঙ্গে মিশে বৃহৎ রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা এই দুই বিকল্প নিয়ে নেতারা কাজ করছেন। সূত্র বলছে, বৃহৎ জোট গঠনের দিকেই নেতারা বেশি আগ্রহী। এলক্ষ্য সামনে রেখেই গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বার বার জাতীয় ঐক্যের আহ্বান করে আসছেন। নানা কারণে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়া জাতীয় নেতাদেরও ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এছাড়া দেশের খ্যাতিমান পেশাজীবী ও বিশিষ্ট নাগরিকরাও থাকবেন এ প্রক্রিয়ায়।

তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণা এর আগেও নানা সময় নানা পক্ষ থেকে এসেছে। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটি একটি বহুল আলোচিত বিষয় ছিল। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে এ ধরনের বিকল্প জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই সময় পাঁচটি দলের সমন্বয়ে জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে তা অনেক দূর এগোলেও শেষ পর্যন্ত সিপিবি সরে আসে। পরে কয়েক দফা বৈঠকের মাধ্যমে বাকি চার দল জেএসডি,
গণফোরাম, বাসদ ও নাগরিক ঐক্যের নেতারা প্রস্তাবিত নতুন জোট ‘জাতীয় ঐক্য উদ্যোগ’-এর ব্যানারে এগারো দফা ‘বিকল্প শক্তি সমাবেশের কর্মসূচি’ চূড়ান্ত করেন। এরপর ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারাকেও ওই জোটে যুক্ত করা নিয়ে আলোচনা কিছুটা এগিয়েছিল। উদ্যোগটি কার্যত ব্যর্থ হওয়ার পর ড. কামাল হোসেন ‘জনগণের ঐক্য’ গড়া নিয়ে কিছুদিন সক্রিয় ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে কেউ কখনও বড় রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে পারেনি। জাতীয় পার্টি ও জামায়াত নানা সময় জোটের শরিক হয়ে কিছ আসন জিততে পারলেও দেশজুড়ে সাংগঠনিক মাথাচাড়া দেওয়ার শক্তি তাদের নেই। এই পরিস্থিতিতে যুক্তফ্রন্ট নামের নতুন জোট দেশের রাজনীতিতে কতোটা প্রভাব রাখবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের সংশয় রয়েই যায়। উৎসঃ পূর্বপশ্চিম
খবরটি শেয়ার করুন

About admin

Check Also

‘দিল্লি লুটের সময়ও এত টাকা লুট হয়নি’

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম নিয়ে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *