Breaking News
Home | টেলিগ্রাফ | বন্দুকযুদ্ধ: রাষ্ট্রদূতদের প্রশ্নের মুখেআ. লীগ নেতারা

বন্দুকযুদ্ধ: রাষ্ট্রদূতদের প্রশ্নের মুখেআ. লীগ নেতারা

বাংলাদেশে ৩৩টি দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার বা তাদের প্রতিনিধিনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের মতবিনিময়ে কথা হয়েছে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে। বন্দুকযুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানি নিয়ে কূটনীতিকরা প্রশ্ন রেখেছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কাছে। আর নেতারা জানান, যেখানে সংঘর্ষ হচ্ছে, সেখানে প্রাণহানি হচ্ছে।
সোমবার বেলা দুই টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে এই মতবিনিময় সভা হয়।সভায় ৩৩ দেশের কূটনৈতিকরা যোগ দেন। এদের মধ্যে ছিলেন অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্সসহ প্রায় ১২ টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার। বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনাররা না থাকলেও তাদের প্রতিনিধি ছিল।

আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ জমির, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, কূটনীতিকরা বেশিরভাগ সময় প্রশ্ন রেখেছেন চলমান মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ প্রাণহানি নিয়েই তাদের আপত্তি।
গত ৪ মে থেকে দেশে র্যা ব-পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলছে। এরই মধ্যে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে একশ। নিহতদের মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফের ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা এবং একরামুলের নিজের দল আওয়ামী লীগ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাকে ফাঁসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
১০ বছর আগে একরামুলের বিরুদ্ধে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাদক আইনে একটি মামলা করেন। তবে সেটি মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে। আবার তার আর্থিক অবস্থা একেবারেই সঙ্গীন। ইয়াবার কারবারি হলে এমনটি হওয়া সম্ভব কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযানে নিহতদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য গত ১৪ বছর ধরে চলা ক্রসফায়ার আর বন্দুকযুদ্ধের বর্ণণার বাইরে নয়। ২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে র্যা ব গঠনের পর ব্যাপকভাবে শুরু হয় ক্রসফায়ার। সন্দেহভাজন বা তার সহযোগীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর গুলি করলে পাল্টা গুলি করে নিরাপত্তা বাহিনী। এবং এর এক পর্যায়ে নিহত হচ্ছেন সন্দেহভাজনরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এসব বর্ণনা কখনও বিশ্বাসযোগ্য ছিল না মানবাধিকারকর্মীদের কাছে। দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও মানবাধিকার কর্মী এবং বিভিন্ন সংস্থা এ রকম ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘ক্রসফায়ার’কে বিচারবহির্ভুত হত্যা বলে আসছে।

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানেও এমনটাই হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, এটা কোনোভাবেই বিচারবহির্ভুত হত্যা নয়। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে জানান হয়, এটি নিয়মিত অভিযান। দুই হাজারের মতো গ্রেপ্তার আছে। কিছু এলাকায় মুখোমুখী সংঘর্ষে হতাহত হচ্ছে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্যও আহত হয়েছেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও কথা হয় দুই পক্ষে। ২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের মুখে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনে জিতে টানা দুইবার ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচনে বিএনপি আসবে কি না, সে ঘোষণা আসেনি এখনও। ফলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি এখনও।
আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত এই বিষয়টি তোলেন এবং তিনি আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কতটুকু, তা জানতে চান। জবাবে আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। এখানে সব দলই অংশ নেবে।

নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ আছে দাবি করে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলেন, নির্বাচনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব, এখানে সরকারের কিছু নাই। আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, এখন থেকে দুই মাস পর পর তাদের সঙ্গে কূটনৈতিকরা বসতে চান বলে জানিয়েছেন তারা। সংবাদ উৎস- ঢাকাটাইমস/২৮মে
খবরটি শেয়ার করুন

About admin

Check Also

‘দিল্লি লুটের সময়ও এত টাকা লুট হয়নি’

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম নিয়ে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *