Home | টেলিগ্রাফ | ‘দিল্লি লুটের সময়ও এত টাকা লুট হয়নি’

‘দিল্লি লুটের সময়ও এত টাকা লুট হয়নি’

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম নিয়ে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও সরকারের শরিক দলের অব্যাহত সমালোচনার মুখে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মঙ্গলবার (১২ জুন) সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনার শুরুর দিনে সংসদ সদস্যরা অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেন। এর আগে রবি ও সোমবার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায়ও সরকারি-বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অর্থমন্ত্রীর সমালোচনায় মুখর ছিলেন।

মঙ্গলবার বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় জাসদের নাজমুল হক প্রধান বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকে টাকা দিয়েছেন, একবার করের ছাড়, একবার ভর্তুকি দিচ্ছেন। একটা সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিবার এরকম করে ব্যাংককে রক্ষা করা যাবে, কিন্তু অর্থনীতি রক্ষা হবে না। ব্যাংক থাকবে, অর্থনীতি কলুষিত হবে। এক মন দুধে এক ফোটা টকই যথেষ্ট।’ নাজমুল হক প্রধান এসময় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের করপোরেট কর আড়াই শতাংশের জায়গায় এক শতাংশ কমানোর দাবি করেন।

জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বাজেটকে ব্যাংক খাতের রক্তক্ষরণের বাজেট আখ্যায়িত করে বলেন, ‘ব্যাংক খাতে করপোরেট কর আড়াই ভাগ কমানো হয়েছে। কিন্তু অন্য করপোরেট খাতে ৪০ শতাংশ রেখে দিয়েছেন। যে খাত ভালো করছে, সেখানে কর কমালেন না। যে খাতে লুটপাট হচ্ছে, কমালেন সেখানে। আমার এক সহকর্মী মাহমুদ গজনীর সোমনাথ মন্দির লুটের কথা বলেছেন। আমি বলছি, নাদির শাহের দিল্লি লুটের সময়ও এত টাকা লুট হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘দুষ্টু বিড়ালকে কুকি দিলেন, পরদিন দুষ্টু বিড়াল দুধ চাইবে। আর ভালো বিড়ালকে রিওয়ার্ড দিলেন না। এতে করে রাজস্ব আদায় কমে যেতে পারে।’

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নোমানবলেন, ‘আমরা ছোট বেলায় ডাব খেতাম, রস খেতাম। তখন বলতো চুরি করেছি। আর এখন হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে,অথচ লুট বলা যাবে না। ব্যাংক কাদের টাকা দিচ্ছে? রাষ্ট্র ব্যাংককে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। কেন জবাবদিহি করা হচ্ছে না? জনগণের টাকায় কেন ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে? লুট করেন, লুট করার সুযোগ দিচ্ছেন। শাস্তি না দিয়ে টাকা দিয়েছেন। আবারও একই অবস্থা হবে।’

শামীম হায়দার বলেন, ‘এতবড় বাজেট বক্তৃতায় বিচার বিভাগ নিয়ে দুটি কথা বলা হয়েছে। এই বাজেট ব্যুরোক্রেটিক বাজেট। যখন এ ধরনের বাজেট হয়, তখন বিচার বিভাগের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এত বেশি বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে, যে কারণে ব্যয় বেড়ে গেছে। উন্নয়নে বরাদ্দ কমছে। মাঝে মাঝে আমি বলি— এটি গণপ্রজাতন্ত্রী সরকার, নাকি গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের সরকার।’ বাজেট আলোচনায় আরও অংশ নেন— নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, এনামুল হক, ইসরাফিল আলম ও কাজী রোজী। উৎস- বাংলা ট্রিবিউন
খবরটি শেয়ার করুন

About admin

Check Also

‘শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হলে রাজাকাররা আমাকে মেরে ফেলবে’

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হলে রাজাকাররা আমাকে মেরে ফেলবে। সম্প্রতি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *