Breaking News
Home | সংবাদ | সিইসির বেফাঁস মন্তব্যে সমালোচনার মুখে ইসি

সিইসির বেফাঁস মন্তব্যে সমালোচনার মুখে ইসি

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার অসতর্ক ও বেফাঁস কথাবার্তায় সমালোচনার মুখে পড়েছে (নির্বাচন কমিশন) ইসি। বিভিন্ন জনের বিরূপ মন্তব্যে বিব্রত সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি। কোনো কোনো রাজনৈতিক দলও সিইসির বক্তব্যকে সামনে রেখে গোটা প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। সিইসির এসব বিতর্কিত বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করতে পারছেন না অন্য ৪ কমিশনারও। এ নিয়ে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে ইসির ভেতরেই- যা ক্রমশ প্রকাশ্যে এসে পড়ছে। কে এম নুরুল হুদার বেফাঁস বক্তব্য ভালো চোখে দেখছেন না নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিশিষ্টজনরাও।

নির্বাচন কমিশনে এক কর্মশালার উদ্বোধন শেষে গত মঙ্গলবার সিইসি কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘বাংলাদেশের বাস্তবতায় জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম একেবারেই হবে না, এমন নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব নয়’। তার এমন বক্তব্যের পর আগামী জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে কিনা তা নিয়েই সংশয় প্রকাশ করে বিএনপিসহ কোনো কোনো রাজনৈতিক দল। সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ও ব্যক্তি, সুশীল সমাজ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও দোশ-বিদোশ মিডিয়া। চুপ থাকেননি ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও।

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে জাতির কাছে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। কিন্তু তা যদি করতে না পারি তাহলে ইসির গ্রহণযোগ্যতা কোথায়, শপথ নেয়ার পরও এ দায়িত্ব পালনে ইসি ব্যর্থ হলে তো আমাদের পদত্যাগ করাই উচিত।

শুধু মাহবুব তালুকদারই নন, সিইসির সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন অন্য কমিশনাররাও। নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলামসহ অন্য ৩ কমিশনার বলেছেন, এটি সিইসির ব্যক্তিগত মত, ইসির নয়। তারা এ বক্তব্যের সঙ্গে সহমত নন। তাদের মতে, কোনো আগাম আলোচনা ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের প্রধান বা অন্য সদস্যরা কমিশনের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত মন্তব্য করতে পারেন না। আবার সাংবিধানিক পদে থেকে অন্য ৪ কমিশনার এ ধরনের সমালোচনা করতে পারেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সিইসিকে কম কথা বলার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এ বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তিনি বলেন, সিইসির এভাবে কথা বলা ঠিক হয়নি। তার সংযত হয়ে কথা বলা উচিত।

অন্যদিকে মাঠের বিরোধী দল বিএনপিও সিইসির বক্তব্য নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রসঙ্গে বলেন, সিইসির বক্তব্যে দেশের নির্বাচনী বাস্তবতা উঠে এসেছে। তিনি সত্য কথাই বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করা এই নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সম্ভব নয়।
এ ছাড়া সিইসির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এ কমিশনের গ্রহণযোগ্য ও যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন বিশ্লেষকরা।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হুসাইন বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এ ধরনের বক্তব্য দেয়া মোটেও উচিত হয়নি। কেননা, মনে রাখতে হবে, তিনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান। তার বক্তব্যে এমন কোনো বার্তা যেন না আসে- তিনি বা তার কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ব্যর্থ। তাহলে জাতি হতাশ হবে। ভোটার ও প্রার্থী, সবাই হতাশ হবেন। তাই একটি কমপোজিট বডি হিসেবে সবাইকে নিয়েই তিনি চলবেন, মিডিয়াতে বক্তব্য দেবেন। মনগড়া বা দায়িত্বহীন কোনো কথাই তিনি বলতে পারেন না। সাবেক এ কমিশনার বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য ইসি কাজ করবে। তবে যদি সেখানে কোনো গণ্ডগোল বা অনিয়ম হয় তাহলে অগ্রিম তা বলা যায় না। এটা হলে দেশ-বিদেশে পত্রপত্রিকায় সমালোচনা হবে, প্রশ্নবিদ্ধ হবে কমিশন।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, সিইসির এ বক্তব্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা- তা নিয়ে রাজনৈতিক দল ও অন্যদের মনে শঙ্কা আরো বাড়িয়ে দিল।
আবার নির্বাচন বিশ্লেষণকারী সংস্থা জানিপপ-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ মনে করেন, আসলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রথম থেকে বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন। এটা তারই ধারিবাহিকতা ধরতে হবে। তিনি যেহেতু একটি সাংবিধানিক পদ অলঙ্কৃত করে আছেন, সেটা মনে রেখে তার মন্তব্য করা ভালো। তবে কে এম নুরুল হুদা ব্যক্তি মানুষ এবং সিইসিও বটে- দুটি কিন্তু আলাদা সত্তা। তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিছু অকপট বা বাস্তবসম্মত মন্তব্য করতেই পারেন, যা হবে তা স্বীকার করা- এটা ভালো দিক। তিনি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে খোলামেলাভাবে কিছু মতামত দিয়েছেন, যা অকপট স্বীকারোক্তি- এটি হয়তো তিনি বিশ্বাস করেন বলেই বলেছেন। এটা স্বীকার করাটা একদিক থেকে ভালোও বটে। সূত্র : ভোরের কাগজ

About admin

Check Also

মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত জানতে চেয়েছে সরকার

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : সারা দেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর বিদ্যমান কোটা সংস্কার করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *