Home | স্বাধীন | ‘সরকারকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই- জনগণ দেখে ফেলেছে’

‘সরকারকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই- জনগণ দেখে ফেলেছে’

নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বলে খোলা মাঠে বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু সংবিধানের কোথাও নির্বাচনকালীন সরকার বা তার কার্যক্ষমতা বা গঠন প্রক্রিয়া ও আকার সম্বন্ধে একটি শব্দও নেই। আবার অনেকে সংবিধানের ৫৭(৩) ধারাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করায় বিষয়টি নিয়ে অযথা ধূম্রজাল সৃষ্টি হচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন। এখানে বলে রাখা ভালো যে, সরকার সরকারই।

সরকার একমাত্র সংবিধান অনুযায়ীই গঠিত হয় এবং ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করে। সরকার গঠনে কারও ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা অনিচ্ছার বহিঃপ্রকাশের কোনো সুযোগ সংবিধান রাখেনি বা কাউকে দেয়ওনি। সংবিধান সরকার গঠনে এবং কার্যকাল নির্ণয়ে সুস্পষ্ট বিধানাবলি রেখে দিয়েছে। সরকার তথা মন্ত্রিসভা কীভাবে গঠিত তা সংবিধানের ৫৫ এ পরিষ্কারভাবে উল্লে­খ করা আছে যা এখানে হুবহু দেওয়া হলো :
“৫৫। (১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী লইয়া এই মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে। (২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান-অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে।(৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন। (৪) সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে।
(৫) রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহে ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিরূপে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হইবে, রাষ্ট্রপতি তাহা বিধিসমূহে-দ্বারা নির্ধারণ করিবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলিয়া তাহার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

(৬) রাষ্ট্রপতি সরকারি কার্যাবলি বণ্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহে প্রণয়ন করিবেন।”। সংবিধান মন্ত্রিসভা গঠনে কোন শূন্যতা রাখে নাই বা শূন্যতার কোন সুযোগও সৃষ্টি করে নাই। কাজেই রাষ্ট্র কখনই মন্ত্রিসভাবিহীন হতে পারবে না বা হওয়ার সুযোগ নাই। যতদিন সংবিধান বহাল থাকবে ততদিন সরকার বা মন্ত্রিসভা সংবিধানের ৫৫ ধারা মেনেই গঠিত হতে হবে যার কোন ব্যত্যয়ের সুযোগ সংবিধানে নাই।
নির্বাচনকালে সরকার তথা নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হলো নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা। যা সংবিধানে ১২৬ ধারায় বলা হয়েছে যে ‘নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে।’ কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সহায়তার বদলে প্রভাব সৃষ্টি করা হয়। পুলিশসহ প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতাসীনদের তাবেদারে পরিণত হয় এবং ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় সরকার প্রধানের মনোবাঞ্ছা পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

যার ফলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে। সেজন্য জনগণ মনে করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্ব শর্ত হলো- সরকারের পদত্যাগ এবং সংসদের বিলুপ্তি। কিন্তু আগামী নির্বাচন যদি সংবিধানের ১২৩(৩)(১) ধারার আওতায় হয় তাহলে বর্তমান সরকার বা মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই এবং করলেও তা সাংবিধানিকভাবে বৈধ হবে না। কারণ নির্বাচন তখন এই সংসদের মেয়াদ থাকার ৯০ দিনের মধ্যে হতে হবে এবং সরকারও এ সংসদের মেয়াদ পর্যন্ত থেকে যাবে। অথচ এখন বিভিন্ন মহল থেকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে একটি ‘খোশগল্প’ বা ‘রটনা’ বা ‘বাজে গুজব’ বলা যেতে পারে।
কারণ সংসদ না ভেঙে বা প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ না করে অন্য কোনো সরকার গঠন করার সুযোগ রাষ্ট্রপতি বা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকেও সংবিধান এখন যে অবস্থায় আছে সেই সংবিধান দেয় না। তাছাড়া সবচেয়ে বড় লক্ষণীয় যে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আজ অব্দি নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যাপারে কোনো কথা প্রকাশ্যে বলেননি। কাজেই ধরে নেওয়া যায় নির্বাচনকালীন সরকার একটি কল্পনা বিলাস যা দিয়ে সরকার হয়তো জনগণের দৃষ্টি ধোঁয়াশা করে দিতে চাচ্ছে এবং এর মাধ্যমে কোনো একটি রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে চাচ্ছে। তবে সরকার যাই চাক না কেন মনে হয় বিরোধী রাজনৈতিক মহল সরকারের সেই ধোঁয়াশার মধ্যে যাবে না। কারণ অতি ছলচাতুরী করতে গিয়ে আগামী নির্বাচনকে অংশগ্রহণ করতে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সরকার করাতে পারবে তাতে কারও বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই কিন্তু সেই নির্বাচন কোনো গ্রহণযোগ্য হবে না তা সরকারকে জেনে রাখা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেবে। সরকারকে তাই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই-জনগণ দেখে ফেলেছে সরকার খালেদা জিয়াকে জেল দিয়ে আটকে রাখতে পারে। কাজেই জনগণের আর জেল-জুলুমের ভয় নেই। চোখ কান বন্ধ করে, পিঠে ছালা বেঁধে, লুকিয়ে-পালিয়ে বা জেল-জুলুম নির্যাতন মেনে নিয়ে কয়টা মাস জনগণ কাটাতে চায়। কারণ বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত শ্লোক- ‘এই দিন দিন না, আরও দিন আছে। এই দিনেরে নিয়ে যাবে সেই দিনেরই কাছে’। লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য। উৎসঃ বিডি প্রতিদিন
খবরটি শেয়ার করুন

About admin

Check Also

জোট-ফ্রন্টকে বিএনপি দিচ্ছে সর্বোচ্চ ছাড়

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২৩ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতাদের সর্বোচ্চ ৮০টি আসনে ছাড় দিতে চায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *