Breaking News
Home | স্বাধীন | অতীত ভুলের জন্য বি. চৌধুরীর কাছে ক্ষমা চেয়েছে বিএনপি

অতীত ভুলের জন্য বি. চৌধুরীর কাছে ক্ষমা চেয়েছে বিএনপি

১৬ বছর আগে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর (বি. চৌধুরীর) পদত্যাগ এবং এর পরবর্তী আচরণের জন্য নিজেদের ভুল স্বীকার করে তার কাছে ক্ষমা চেয়েছে বিএনপি। শুক্রবার রাতে বারিধারায় বি. চৌধুরীর বাসায় যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও খন্দকার ড. মোশাররফ হোসেন। সেখানে বি. চৌধুরীর সঙ্গে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বিএনপির শীর্ষ তিন নেতা।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, আলোচনার এক পর্যায়ে বি. চৌধুরীর কাছে অতীত ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন বিএনপি নেতারা। পাশাপাশি রাজনৈতিক আন্দোলনে এক হয়ে কাজ করার জন্য বি চৌধুরীকে আহ্বান জানান।বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, জবাবে বি চৌধুরী বলেছেন, গণতান্ত্রিক কোনো আন্দোলনে বিকল্পধারা পাশে থাকবে। তবে তার আগে জামায়াতকে বাদ দিয়ে আসতে হবে।
আগামীকাল শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই সমাবেশে বি চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন।বিএনপির একটি প্রতিনিধিদলও ওই সমাবেশে অংশ নেবে।
বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান ও যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে। জানা গেছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে বি. চৌধুরী থাকবেন কি না এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিএনপি নেতারা তার বাসায় যান।বৈঠকের বিষয়ে মাহি বি চৌধুরীর বলেছেন, নিয়মিত রাজনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে বিএনপি নেতারা এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

‘তবে জামায়াতকে বাদ না দিলে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো ঐক্য হবে না।’নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিএনপির জয়লাভের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান বি. চৌধুরী। পরবর্তীকালে ১৪ নভেম্বর ২০০১ এ তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব লাভ করেন এবং ২০০২ সালের ২১ জুন পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।
২০০২ সালের ২১ জুন দলের অভ্যন্তরের অন্যান্য নেতাদের চাপে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় যে তিনি এর আগের মাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার মাজারে না গিয়ে তার প্রতি অশ্রদ্ধা পোষণ করেন।
সাত মাসাধিককাল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ৩০ মে ২০০২ তারিখে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিরপেক্ষ থেকে জিয়াউর রহমানের সমাধি পরিদর্শন না করার সিদ্ধান্ত নেন।
তার এই সিদ্ধান্তে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির অনেক নেতা তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আনেন। সংসদে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাবেরও পরিকল্পনা চলছিল। নিজ দলের মধ্যে বিরাজমান ক্ষোভ ও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে তিনি জুনের ২১ তারিখ বিএনপি সভানেত্রী খালেদা জিয়ার বাসভবনে তার সঙ্গে সাক্ষাত করেন ও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগের পর ড. বি চৌধুরী বিএনপি থেকেও পদত্যাগ করেন। পরবর্তীকালে মুন্সীগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত তার ছেলে মাহি বি চৌধুরী ও ও বিএনপির আরেকজন সংসদ সদস্য এম এ মান্নানও সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয় বি. চৌধুরীর। মার্চ ২০০৪ এ বি চৌধুরীর উদ্যোগে বিকল্পধারা বাংলাদেশ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। উৎস – সারাবাংলা
খবরটি শেয়ার করুন

About admin

Check Also

জোট থেকে যারা চলে গেছে তারা ‘বেঈমান’ : রিজভী

20 দলীয় জোট থেকে যারা বেরিয়ে গেছে তাদের বেঈমান বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল করিব রিজভী। আজ বুধবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।রিজভী বলেন, ‘২০ দলীয় জোট ভাঙছে না, এক আছে। ব্যক্তি স্বার্থে দু-একজন চলে গেলে জোটে কোনো প্রভাব পড়বে না। কিছু নেতা লাভবান হতে বেঈমানি করছে।’ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার তারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *